রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় নিউ গিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্পে হামলা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ওই প্রকল্পে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়, পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা প্রকল্পে প্রবেশ করে ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় প্রকল্পের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজ ও নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। হামলাকারীরা মেইন গেট, গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, রড, বাইকসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এজাহার অনুযায়ী, প্রকল্পের মেইন গেট, থাইগ্লাস ও কেঁচি গেট ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার এবং অফিসের ভেতরে কম্পিউটার, মনিটর, ফ্রিজ, টিভি ও আলমারি ভাঙচুর করে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। এছাড়া অফিস কক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণ সামগ্রী কেনার জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা, বিভিন্ন সাইজের ২০০ ফুট তার যার মূল্য ৫৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রড এবং এক ফ্ল্যাট মালিকের ৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটার চুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, এ হামলায় প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং হামলাকারীরা ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্পের ৫ হাজার স্কয়ার ফুট ফ্লোরে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস স্টুডিও’তে অনধিকার প্রবেশ করে ২টি টিভি, এসি ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ দামি শুটিং ও টেকনিক্যাল ইকুইপমেন্ট ছিল। মামলার আসামিরা হলেন শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০), মো. আবুল কাশেম (৫৩), মো. বাবুল হোসেন (৪৯), মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী (৬৭), মোহাম্মদ সাহিনুজ্জামান (৪৭), মো. মতিউর রহমান (৪৮), মজিবুর রহমান (৪৭), নুরুল ইসলাম (৫১), মিজানুর রহমান (৫৯), এমকে আজাদ (৫৪), মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)। এই ১৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।





















