আবুনাঈম রিপন

নরসিংদীর মনোহরদীতে জমিসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে মিজান মিয়া নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (০১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মিজান মিয়া (৪০) বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বড়চাপা পূর্বপাড়ার সফুর উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত জীবন একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহর (৬৫) ছেলে।

নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের একটি রাস্তা নিয়ে মিজান ও তার চাচা শহীদুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ চলছিল। এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শহীদুল্লাহর পক্ষ থেকে তা মেনে নেওয়া হয়নি, যার ফলে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার দুপুরে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছ কাটতে গেলে মিজান ও শহীদুল্লাহর পরিবারের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এরই মাঝে শহীদুল্লাহর ছেলে জীবন লাঠি নিয়ে এসে হঠাৎ মিজানের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মিজান ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।

দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক খন্দকার আনিসুর রহমান জানান, দুপুরবেলা মিজানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

ঘটনার বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজার মধ্যে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, যার পরিণতিতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে মরদেহটি সুরতহাল করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।