সাবেক স্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতা রাজা চৌধুরী। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাদের অতীত দাম্পত্য জীবন এবং বিচ্ছেদের করুণ কাহিনী শুনিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে বলিউড অভিনেত্রী মেয়ে পলক তিওয়ারির সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে করেছেন বেশ কিছু বিস্ফোরক দাবি।
বিয়ের শুরুর দিনগুলো স্মরণ করে রাজা অভিযোগ করেন, তাকে কেবল একজন ‘বিনা বেতনের গৃহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, দাম্পত্যজীবনের শুরুর দিকে উপার্জনের মূল দায়িত্ব ছিল শ্বেতার ওপর, আর ঘরের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা ও দেখাশোনার দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজার ওপর। তিনি আক্ষেপ করে জানান, শ্বেতা যখন প্রচুর অর্থ উপার্জন করছিলেন, তখন তিনি একজন সাধারণ ম্যানেজারের মতো কাজ করতেন, যার কোনো মূল্যায়ন ছিল না এই সংসারে।
সম্পর্কের এই তিক্ততা এবং চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পেছনে শ্বেতার মায়ের হস্তক্ষেপকেও দায়ী করেছেন রাজা। তার দাবি, শ্বেতার মা-ই কৌশলে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন এবং শ্বেতাকে প্রতিনিয়ত বোঝাতেন যে, তার সফল জীবনে রাজার কোনো অবদান নেই এবং তার প্রয়োজনও নেই।
বিচ্ছেদের পরবর্তী জীবন ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। রাজা জানান, তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগেছেন। বিশেষ করে মেয়ে পলককে দেখতে না পাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি মদ্যপানের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তাকে রিহ্যাবে চিকিৎসা নিতে হয়। রাজা আবেগপ্লুত হয়ে জানান, পলকের আট বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তাকে পরম মমতায় প্রতিপালন করেছিলেন। কিন্তু গত ১৮ বছরে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে মাত্র দুই থেকে তিনবার। নিজের পুরোনো স্মৃতির কষ্ট থেকে বাঁচতে এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়ে পলককে ব্লক করে রেখেছেন, যাতে পলকের কোনো ছবি বা ভিডিও তার সামনে এসে তাকে আবারও ব্যথিত না করে।
পলক তিওয়ারির ব্যক্তিগত জীবন এবং ইব্রাহিম আলি খানের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজা চৌধুরী বেশ উদাসীন মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি সোজাসাপ্টা জানান, তিনি এখন পলকের জীবনে কেবল একজন ‘বায়োলজিক্যাল ফাদার’ বা জন্মদাতা বাবা ছাড়া আর কিছুই নন। তাই পলকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তার আর কোনো মাথা ব্যথা নেই।
তবে এত তিক্ততা এবং দীর্ঘদিনের বিবাদের পরও মেয়ের প্রতি তার পিতৃস্নেহ ম্লান হয়নি। রাজা চৌধুরী দাবি করেন, তিনি কোনোদিনও মেয়ের প্রতি দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি। তিনি বলেন, পলক তাকে কোনোদিন নিজের জীবনে জায়গা না দিলেও বা বাবা বলে মেনে না নিলেও, যদি কখনো পলকের তার প্রয়োজন হয়, তবে তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই পাশে দাঁড়াবেন। এমনকি গভীর রাতেও যদি পলক কোনো বিপদে পড়ে তাকে ফোন করে, তবে তিনি সবকিছু ছেড়ে তৎক্ষণাৎ মেয়ের পাশে উপস্থিত হবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে শ্বেতা তিওয়ারি ও রাজা চৌধুরীর বিয়ে হয়েছিল। তবে তাদের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, মদ্যপান ও উত্ত্যক্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগ এনে ২০০৭ সালে আলাদা হয়ে যান শ্বেতা। পরবর্তীতে ২০১২ সালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
অন্যদিকে, মেয়ে পলক তিওয়ারি এখন বিনোদন জগতের এক পরিচিত মুখ। ২০২৩ সালে সালমান খানের ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখেন তিনি। এরপর ‘রোমিও এস৩’ এবং ‘দ্য ভূতনি’র মতো ছবিগুলোতে অভিনয় করেছেন পলক। সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় মিউজিক্যাল থ্রিলার ওয়েব সিরিজ ‘লুকখে’-তে তাকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে, যা দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।










