রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ২৭তম বিসিএস শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপ্তি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি এক কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। বরং পুলিশ হবে একটি দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব এবং মানবিক প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি ডিজিটাল অপরাধ দমন এবং সাইবার নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নতুন প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু এবং সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনের আমলে পুলিশ বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনকার সময়ে কোনো নাগরিক যেন সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ হলো। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে মোট ৫৮ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যারা এই সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে এখন বাস্তব কর্মজীবনে পদার্পণ করছেন।
একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিবাদন গ্রহণ শেষে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানের প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি তার দীর্ঘ প্রশিক্ষণের অসাধারণ কৃতিত্বের অংশ হিসেবে 'বেস্ট প্রবেশনার' এবং 'বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ'—এই দুই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে অনন্য গৌরব অর্জন করেন। পাশাপাশি 'বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড' পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং 'বেস্ট শ্যুটার' হিসেবে স্বীকৃতি পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ এ বি এম মামুন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল অ্যাডিশনাল আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান।










