রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছেন দেশটির হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। একই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া তাঁর স্ত্রী নাইমা ইমরান বর্তমানে হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে বারিধারার ওই বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলনের তথ্যানুযায়ী, বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে দেখতে পান যে, কক্ষের ভেতরে বড় ধরনের আগুনের লেলিহান শিখা না থাকলেও পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বালতি ও মগের সাহায্যে পানি দিয়ে দ্রুত আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের পর বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ভবনের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত ধোঁয়া বের করে দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ধারণা, বাসভবনের একটি টেলিভিশনের বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং তার পরপরই হাইকমিশনার ও তাঁর স্ত্রী আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও, অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে পরবর্তীতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সকাল ৯টার দিকে তাঁদের দ্রুত গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর স্ত্রী নাইমা ইমরান কেবিনে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক ত্রুটি আগুনের কারণ হলেও, ঘটনার প্রকৃত এবং সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।







