সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) গার্ড জাফরের সন্তান। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে তিনি নিচে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানা থেকে শাহারিয়ার কবির সৌমি নামে এক যুবক মিম নামের এক তরুণীকে সাথে নিয়ে সাভারে মনোয়ারুলের বাসায় পালিয়ে এসেছিল। নিহত মনোয়ারুল এবং শাহারিয়ার কবির পরস্পর মামা ও ভাগ্নে। এই ঘটনায় মেয়েটির পরিবার পীরগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করলে, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ এবং সাভার মডেল থানার পুলিশের একটি যৌথ দল মনোয়ারুলের বাসায় অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের পূর্বেই শাহারিয়ার কবির এবং তার প্রেমিকা ওই বাসা থেকে পালিয়ে চলে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী ছাদে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরাও তার পিছু নিয়ে ছাদে তল্লাশি শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই মনোয়ারুল পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী রাসেল মনি জানান, রাতে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে শাহারিয়ার কবির ও তার প্রেমিকাকে না পেয়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশীকে ধাওয়া করে। পুলিশের এই ধাওয়ার কারণেই তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় মনোয়ারুলকে উদ্ধার করে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ উঠেছে, ছাদ থেকে পড়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এই বিষয়ে ওসি সাইফুল আলম জানান, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সাভারে এসেছিল এবং তাদের সাথে সাভার মডেল থানার একটি টিমও যুক্ত ছিল। তিনি আরও জানান, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ যখন ভবনের ভেতরে আসামি খুঁজতে যায়, তখন এক যুবক ছাদ থেকে পড়ে নিহত হয়। সে সময় সাভার মডেল থানা পুলিশ ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিল। এই স্পর্শকাতর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।







