বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উচিত সাকিব আল হাসানের সমস্ত রেকর্ড, পরিসংখ্যান এবং মাইলফলক চিরতরে মুছে ফেলা। যে ক্রিকেটার প্রকাশ্যে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে পূজা করেন, ক্রিকেটের গৌরবময় ইতিহাসে তার নাম থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। ইতিহাস থেকে সাকিবের নাম এবং রেকর্ড মুছে ফেলা হলে আমাদের ক্রিকেট মোটেও নিঃস্ব হয়ে যাবে না—এমন দাবি জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন।

শফিকুল আলম তার পোস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাস থেকে কিছু উদাহরণ টেনে এনে বলেন, ‘ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম ও পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর এবং এডি বার্লো সাকিবের চেয়ে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। তবে তাদের হাতে রক্ত লেগে ছিল না এবং তারা সাকিবের মতো দুর্নীতিগ্রস্তও ছিলেন না। তাদের একমাত্র অপরাধ ছিল এমন একটি বর্ণবাদী শাসনের অংশ হওয়া, যা বর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের বাদ পড়তে হয়েছিল, যদিও ব্যারি রিচার্ডস সম্ভবত তার সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাকিব আল হাসান হয়তো ভবিষ্যতে বিসিবি সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে একজন ‘হিটলার’ সদৃশ ব্যক্তিত্বকে পূজা করছেন এবং দেশে ফিরে একটি খুনি শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখছেন। শফিকুল আলমের মতে, সাকিবের ‘ক্যাপ্টেন’ তথা শেখ হাসিনার সংঘটিত গণহত্যার অপরাধগুলো জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করেছে, কিন্তু তার এসব জঘন্য অপরাধের জন্য সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমাদের ক্রিকেটে গণহত্যাকারীর পূজারীদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তাকারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের ক্রীড়া বীর হিসেবে দেখার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ২০০৯ সালের বিডিআর সদর দপ্তরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার সেই ঘটনায় কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি এবং অ্যাথলেটিক্সের জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময়ে তাদের জন্য কেউ অশ্রুপাত করেনি এবং কেউ তাদের ক্ষমার আবেদন জানায়নি। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাকিবের বোঝা উচিত যে, গণহত্যাকারীকে পূজা করে কেউ রেহাই পেতে পারে না।