নাটোর: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং সরকারদলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর এক পথসভা থেকে আটক এক যুবকের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি আসলে একটি খেলনা পিস্তল বলে নিশ্চিত করেছেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইফতে খায়ের আলম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের উত্তরা গণভবনের সামনে আয়োজিত ওই পথসভা চলাকালীন সন্দেহজনক আচরণের কারণে ওই যুবককে আটক করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে উত্তরা গণভবনের সামনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার এক পথসভা চলছিল। ওই কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই পরিবেশের মাঝে খয়েরি রঙের পোশাক পরিহিত এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে আটক করার পর তল্লাশিতে তার কাছে একটি পিস্তল পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে জানা যায়, আটককৃত যুবকের নাম তামিম, তিনি নাটোরের প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সার ডিলার শামসুল আলমের ছেলে। তামিম নাটোর পৌরসভার কানাইখালী এলাকায় তার পরিবারের সাথে বসবাস করেন এবং তার বাবার সার ডিলার ব্যবসার দেখাশোনা করেন। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, তার পকেটে থাকা পিস্তলটি তার বাবার নামে লাইসেন্সকৃত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তিনি সেটি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাটোর সদর থানার ওসি মো. মনসুর আলম জানান, শুক্রবার বিকেলে উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা গণভবনের গেট সংলগ্ন পথসভা মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই সময় ওই যুবক মন্ত্রীর অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। মন্ত্রী যখন মঞ্চ থেকে নামছিলেন, তখন ওই যুবকের সঙ্গে দুইবার ধাক্কা লাগে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় এবং তাকে পাশে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তল্লাশিতে তার কাছে একটি পিস্তল পাওয়া গেলে তাকে সাথে সাথে আটক করে নাটোর সদর থানার হেফাজতে নেওয়া হয়।

তবে তদন্তের পর পুলিশ ভিন্ন তথ্য পেয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আটক তামিম দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত হয়ে আছেন। তার দাবি করা লাইসেন্সকৃত পিস্তলের বিষয়টিও সঠিক নয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি দেখতে হুবহু আসল পিস্তলের মতো, যার ওজন এবং রং বাস্তবসম্মত হলেও এটি আসলে অনলাইন শপিং সাইট 'দারাজ' থেকে কেনা একটি খেলনা পিস্তল।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইফতে খায়ের আলম বলেন, "যদিও অস্ত্রটি একটি খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তবে একজন ব্যক্তি কেন এমন জিনিস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পথসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না।