কাজী পলাশ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক দৃষ্টিহীন প্রবীণকে প্রতারণার জালে ফেলে পৌনে দুই শতাংশ জমির স্থলে প্রায় ১৮ শতাংশ জমি নিজের নামে দলিল করে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ধূর্ত ভাতিজার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ কৃষ্ণ কান্ত বাগচী রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দেবগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।

ঘটনার পটভূমি ও চরম আর্থিক সংকট

ছোটবেলায় এক চোখের দৃষ্টি হারানোর পর কৃষ্ণ কান্ত বাগচী বহু কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। প্রায় ২০ বছর আগে অপর চোখটিতেও সমস্যা দেখা দিলে নিজের জমিজমা বিক্রি করে চিকিৎসা করান, তবে দৃষ্টি মেলেনি; উল্টো নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে স্ত্রী, ছোট পুত্রবধূ ও দুই শিশু নাতি-নাতনিকে নিয়ে তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছেন। তার বড় ছেলে ভারত থেকে মাঝে মাঝে দু-তিন হাজার টাকা পাঠান। এছাড়া বয়স্ক ভাতা ও দুস্থ মাতার কার্ডের সামান্য সহায়তাই এই পরিবারটির একমাত্র ভরসা।

মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ১৮ শতাংশ জমি গ্রাস,,,,,

চরম আর্থিক সংকটে পড়ে গত ৯ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে কৃষ্ণ কান্ত বাগচী তার চাচাতো ভাই মৃত সুনিল বাগচীর ছেলে অনুপ বাগচীর (রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা) কাছে পৌনে দুই শতাংশ জমি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযোগ উঠেছে, অনুপ বাগচী সুচতুরভাবে তার অন্ধ চাচা ও অশিক্ষিত চাচিকে ভুলিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে মেয়ে ও জামাতাকে না জানিয়ে গোবিন্দপুর মৌজার (দলিল নং ১৬০৭) এস.এ. ১৪৮১ ও বি.আর.এস. ৫২ নং খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে থাকা কৃষ্ণ কান্তের নিঃসন্তান প্রয়াত ভাইয়ের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া মোট ১৭.৮৪ (প্রায় ১৮) শতাংশ জমি নিজের নামে নিঃশর্ত দান ও বিক্রির দলিলে লিখিয়ে নেন। দান কৃত জমির মূল্য লিখেন ছয় লক্ষ সত্তর হাজার টাকা। সম্প্রতি ভুক্তভোগী বৃদ্ধ বাকি জমি বিক্রি করতে গেলে সম্ভাব্য ক্রেতার অনুসন্ধানে ধরা পড়ে যে সম্পূর্ণ জমি আগেই রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে।

সাক্ষী জালিয়াতি ও দলিল লেখকের বিতর্কিত ভূমিকা,,

দলিলের ২ নং সাক্ষী গৌতম বাগচী অভিযোগ করেন, তিনি দলিল সম্পাদনের সময় উপস্থিতই ছিলেন না এবং তার অজান্তে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিনি জানতেন মাত্র ৩০ হাজার টাকায় পৌনে দুই শতাংশ জমির চুক্তি হয়েছিল। দলিলে সনাক্তকারী দেবাশীষ বসু জানান, তিনি কেবল পরিচিতি নিশ্চিত করতে স্বাক্ষর করেছেন, জমির পরিমাণ বা মূল্য সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

অন্যদিকে, দলিল লেখক আব্দুল খালেক হাওলাদার নিয়ম মেনে কাজ করার দাবি করলেও স্বীকার করেন যে, এটি ‘নিঃশর্ত দানপত্র দলিল’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল—যা পুরো ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

প্রশাসনের পরামর্শ ও অভিযুক্তের পিছুটান,,,

কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূর মোজাম্মেল হোসেন জানান, প্রতারণার শিকার পরিবারটি গোপালগঞ্জ জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করলে এর আইনি প্রতিকার পেতে পারে।

বিষয়টি জানাজানি ও এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত ভাতিজা অনুপ বাগচী সাফাই গেয়ে বলেন, "চাচা যে জমি দিয়েছেন আমি সেটাই নিয়েছি। তবে অসহায় চাচা যদি এখন জমি ফেরত চান, আমি তা ফেরত দিয়ে দেব।"

প্রতারিত কৃষ্ণ কান্ত বাগচী ও তার পরিবার এখন তাদের একমাত্র সম্বল এই সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।

শারীরিক ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।সচেতন মহলের দাবি

, অনুপ বাগচি ( ভাতিজা জালিয়াতি করে জমি নিয়েছেন)

গৌতম বাগচি ( সাক্ষী) তিনি বলেন আমাকে জানিয়েছিলেন ৩০ হাজার টাকায় পৌনে দু শতাংশ জমি দলিল করার কথা কিন্তু আমি দলিল করার সময় ছিলাম তবে সাক্ষী ঘরে তার নাম থাকায় সেও হতভম্ব।