ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ঘনিষ্ঠ বলয়ের প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার দাবি, দলীয় লোকজন এবং নিজস্ব ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ স্কুলে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাশেদ খাঁন বলেন, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি হত্যার পর তার মরদেহের কোনো চিহ্ন বা অস্তিত্ব রাখা হয়নি, যা এই ঘটনার নৃশংসতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগের ভেতরে দীর্ঘদিনের চরম কোন্দলের কারণেই আনার এই করুণ পরিণতির শিকার হয়েছেন। তার মতে, এই ষড়যন্ত্রের মূল কারিগর ছিলেন আওয়ামী লীগের নিজস্ব লোকজন এবং তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।

কালীগঞ্জের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন বলেন, চোরাকারবার, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কারণে অনেকেই কালীগঞ্জকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। তিনি এই নেতিবাচক পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকলের সাথে একযোগে কাজ করতে চান বলে জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুপ্রেরণামূলক কথা বলে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না এলেও কখনোই হতাশ হওয়া উচিত নয়। নিজের শিক্ষাজীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমি নিজেও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাইনি। তবে পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক চেষ্টার মাধ্যমে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।" শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার অবস্থান থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন তোতার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা তবিবুর রহমান মিনি, ডা. নুরুল ইসলাম, ইসরাইল হোসেন জীবন, ইলিয়াস রহমান মিঠু, নজরুল ইসলাম তোতা, শামসুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, নজরুল মোল্লা, খোকা মিয়া, লুৎফর রহমান লেন্টু, যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মিলন, আশরাফুজ্জামান লাল, মিজানুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষে রাশেদ খাঁন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।