চীনে পিক্সেল ডিভাইসের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্ট গুগল। আগামী বছর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে পিক্সেল স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ ও ইয়ারবাডসহ সব ধরনের হার্ডওয়্যার উৎপাদন চীন থেকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি। প্রযুক্তি বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট এবং জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প বাজার হিসেবে ভিয়েতনাম ও ভারতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দুই দেশে গুগলের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ఇప్పటి পর্যন্ত তাদের অধিকাংশ ডিভাইসের নির্মাণ কাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল চীনে। তবে এখন তারা সরবরাহকারীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৭ সালের পর আর কোনো পিক্সেল ডিভাইস চীনে উৎপাদিত হবে না।

নিক্কেই এশিয়ার আগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগলের পরবর্তী প্রজন্মের ‘পিক্সেল ১১’ সিরিজের নকশা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া ভিয়েতনামে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্থানে উচ্চপ্রযুক্তির ডিভাইস তৈরি করা সহজ কাজ নয়। এর জন্য গুগলকে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক টেস্টিং ইকুইপমেন্ট স্থাপন, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো এবং পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই করে ত্রুটিমুক্ত করার জন্য কোম্পানিটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভিয়েতনামে পিক্সেল ফোনের পরীক্ষামূলক উৎপাদন সফল হওয়ায় গুগলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের মতো জটিল পণ্য যদি সফলভাবে ভিয়েতনামে তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে স্মার্টওয়াচ বা ইয়ারবাডের মতো তুলনামূলক সহজ ডিভাইসের উৎপাদন সেখানে স্থানান্তর করা কেবল সময়ের ব্যাপার। কারণ, একটি স্মার্টফোন তৈরির প্রযুক্তিগত ধাপগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল, যা ঘড়ি বা ইয়ারবাডের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

জাপানি সংবাদমাধ্যমটি আরও উল্লেখ করেছে যে, অ্যাপলের মতো বড় কোম্পানির তুলনায় গুগলের জন্য চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হবে। এর প্রধান কারণ হলো, গুগল চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পিক্সেল ডিভাইস বিক্রি করে না। এছাড়া বিশ্ববাজারে পিক্সেল ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা অ্যাপলের আইফোনের তুলনায় অনেক কম, ফলে চীনের বাজারের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা সীমিত। পাশাপাশি, ভিয়েতনামে স্যামসাং আগে থেকেই একটি শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন ও অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, যার সুবিধা গুগল সহজেই গ্রহণ করতে পারছে।

সরবরাহকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পিক্সেল ফোনের সরবরাহ ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে গুগল। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে তাদের চালানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ইউনিট। মূলত গুগলের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ‘জেমিনাই’র ব্যবহারকারী সংখ্যা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই ফোনের উৎপাদন বাড়ানোর এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মেমোরি যন্ত্রাংশের ক্রমাগত দামবৃদ্ধির চাপ সামলাতে গুগল এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। তারা তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থার জন্য নির্ধারিত চিপের ক্রয়াদেশের সাথে স্মার্টফোনের মেমোরি চিপের অর্ডার যুক্ত করে একসাথে কেনাকাটা করছে, যাতে খরচ কমানো সম্ভব হয়।