কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় সব খাতের কর্মীদের জন্য পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, আমরা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সেই অনুযায়ী, আগামী মাস অর্থাৎ আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাত্রা শুরু হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে এক বিশাল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, এই সুযোগের সুযোগ নিয়ে দালাল ও অসাধু চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া থেকে যেন সবাই সর্বোচ্চ সচেতন থাকেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকা বর্তমান সমঝোতা স্মারকের (MoU) ভিত্তিতে মালয়েশিয়া সরকার নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করবে।
তিনি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বিগত ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িত, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স ইতিমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে। মাহ্দী আমিন বলেন, “আমরা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছি। যারা ফ্যাসিবাদী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল, তাদের কেউই নতুন তালিকায় স্থান পাবে না। মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করবে।”











