লন্ডনের রাজপথে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী শ. ম রেজাউল করিম। গত ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারত হয়ে লন্ডনে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে গিয়েও তিনি শান্তি পাননি; তাকে খুঁজে বের করেন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম রিবলু ও তার সহকর্মীরা।

বুধবার পশ্চিম লন্ডনের এলপোট লান্ড এলাকার আনান সেন্টারের একটি রেস্টুরেন্টে রেজাউল করিমের অবস্থান জানতে পেরে শফিকুল ইসলাম রিবলুর নেতৃত্বে ১০-১২ জন কর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তাকে সামনে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। তাকে সরাসরি 'খুনি' ও 'দুর্নীতিবাজ' বলে সম্বোধন করা হয়। এসময় রেজাউল করিম কোনো কথা না বলে অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকেন। পরে উপস্থিত কিছু ব্যক্তির সহায়তায় তিনি দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।

রেস্টুরেন্টের ভেতরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শ. ম রেজাউল করিম একের পর এক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়— দেশে গুম-খুন কেন করা হয়েছে? নিখোঁজ ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের বর্তমান অবস্থা কী? শত শত নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যার দায় কার? দুর্নীতি করে লুট করা টাকা নিয়ে কেন লন্ডনে পালিয়েছেন? এসব প্রশ্নের মুখে তিনি সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন এবং কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এই ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদল নেতারা জানান, "আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিম লন্ডনের আনান সেন্টারের রেস্টুরেন্টে যাই। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হয়ে দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে তিনি লন্ডনে পালিয়েছেন। তাকে শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, হত্যা এবং এনসিপি, বিএনপি ও সাধারণ মানুষের ওপর চালানো নৃশংসতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কিছু লোকের সহায়তায় তিনি পালিয়ে যান।"

উল্লেখ্য, এর কিছুদিন আগে একই স্থান থেকে সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদকেও খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, তবে তিনিও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।