কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সার ডিলারের গোডাউনের তালা ভেঙে প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার লুট করার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে সারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের এই পদক্ষেপ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে রোববার সকাল ১১টার দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুদ্দিন জানান, ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল মোট ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সারের বরাদ্দ পেয়েছিলেন, যার মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রোববার সকালে দুই শতাধিক কৃষক সারের জন্য ডিলার পয়েন্টে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও ডিলার পয়েন্ট না খুলে নানা ধরনের টালবাহানা করতে থাকেন মালিক। টাকা পরিশোধ করেও সঠিক সময়ে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে কৃষকরা চরম ক্ষোভের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত দিশেহারা হয়ে তারা গোডাউনের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের মোট ১৯৭ বস্তা বা প্রায় ৯ হাজার ৮৫০ কেজি সার নিয়ে যান।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের মোট চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা হলেও বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ হাজার ৩২০টি বস্তা। ফলে সরবরাহের তুলনায় চাহিদার চাপ ছিল অনেক বেশি। তবে ডিলার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করতে গড়িমসি করায় কৃষকদের মধ্যে সার না পাওয়ার তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়, যার ফলে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতায় ইতিমধ্যে ৩৩ জন কৃষক তাদের নেওয়া ৩৩টি বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, আগস্ট মাসে উপজেলায় ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা ছিল ৬৮০ টন, যা সরকার থেকে পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে বিতরণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। ভুল বোঝাবুঝি এবং আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে কৃষকরা এমন কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা কৃষকদের সচেতন করার জন্য কাজ করছি এবং আশ্বস্ত করছি যে সারের কোনো অভাব নেই। লুট হওয়া বাকি সারগুলো দ্রুত ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। এই সময়ে আমরা সবার ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করছি।”

এই ঘটনার বিষয়ে জানতে শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুলের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, “কিছু উশৃঙ্খল মানুষ প্যানিক ছড়িয়ে গোডাউনের দরজা ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেছে। কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আমি নিজেই সরেজমিন পরিদর্শন করব এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”