মো: আরিফুল ইসলাম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর একটি গানে লিখেছেন, "মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই/যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই" জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবং সে অনুযায়ী তাঁর সমাধি রচিত হয়। তবে প্রমিলা দেবীর শেষ ইচ্ছা ছিল তাঁর স্বামীকে যেন তাঁর কবরের পাশে (চুরুলিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পৈতৃক বাড়িতে) সমাধিস্থ করা হয়। কিন্তু প্রমিলার শেষ ইচ্ছাটি আর পূরণ হয়ে উঠেনি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা তাঁর অম্লান স্মৃতির প্রতি গ্রভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ২৩ বছরের সাহিত্য জীবনের অনন্য সৃষ্টি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে মর্যাদার এক উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাংলা ভাষার কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ।
তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তাঁর সাহিত্য কর্মের মধ্যে মানবতার বাণী ছিল উচ্চকিত। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর কবিতা ও গান এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন তাঁর অনন্য সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে। উজ্জীবিত করেছেন অবহেলিত ও শোষিত মানুষকে শোষক ও অত্যাচারির কবল থেকে রক্ষা পেতে। ফলে তিনি বৃটিশ শাসকদের চক্ষুশুলে পরিণত হন। এবং কারা নির্যাতন ভোগ করেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক চিরকালীন দ্রোহের প্রতীক। সাহিত্য ও শিল্পকর্মে তাঁর ছিল বহুমূখী প্রতিভা। কিন্তু তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি কবি। তাঁর রচনা আমাদেরকে স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজে শান্তি, সাম্য ও মানবতা প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে তিনি সাহিত্যকর্মে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সৃষ্টিকর্মের জন্য চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।




















