মোঃ আরিফুল ইসলাম,
সন্তান লালন-পালনে একজন মায়ের ভূমিকার গুরুত্ব আমরা প্রায়ই শুনি, এবং যথার্থভাবেই শুনি। তবে একজন বাবার ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনোভাবেই তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
একজন বাবার দায়িত্ব শুধু আর্থিকভাবে সন্তানদের ভরণপোষণ করা এবং তাঁদের জীবনযাপনের খরচ বহন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর ভূমিকা এর চেয়েও অনেক বিস্তৃত। তাঁকে সন্তানদের মধ্যে উত্তম নৈতিকতা ও সুন্দর চরিত্র গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে এবং ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁদের সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করতে হবে।
সন্তানদের এমন একজন বাবা প্রয়োজন, যিনি তাঁদের পথ দেখাবেন, পরামর্শ দেবেন, তাঁদের সময় দেবেন, তাঁদের কথা শুনবেন, উত্তম আদব-আখলাক শেখাবেন এবং আল্লাহর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে লালন করবেন।
একজন বাবার উচিত সন্তানের চরিত্র নিয়ে যেমন চিন্তা করা, তেমনি তাঁর শিক্ষার বিষয়েও চিন্তা করা; তাঁর নামাজ নিয়ে যেমন উদ্বিগ্ন থাকা, তেমনি তাঁর ভবিষ্যৎ পেশা নিয়েও ভাবা; এবং তাঁর শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি তাঁর হৃদয় ও আত্মার প্রতিও যত্নশীল হওয়া।
সন্তানদের শুধু একজন উপার্জনকারী বাবা প্রয়োজন নেই। তাঁদের প্রয়োজন একজন আদর্শ, একজন শিক্ষক, একজন রক্ষক এবং প্রজ্ঞা ও সঠিক দিকনির্দেশনার উৎস।
একজন বাবার কথা, তাঁর উপস্থিতি এবং সন্তানদের জীবনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ বছরের পর বছর একটি সন্তানের জীবনকে গড়ে তুলতে পারে। বাবা যদি সন্তানদের লালন-পালনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন, তাহলে অনেক সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
যারা বিয়ের কথা ভাবছেন এবং যারা ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার আশা রাখেন, তাঁদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণিকা। পিতৃত্বের প্রস্তুতি সন্তান জন্মের অনেক আগেই শুরু হয়। একজন পুরুষের উচিত নিজেকে সংশোধন করা, নিজের চরিত্রকে শক্তিশালী করা, জ্ঞান বৃদ্ধি করা, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং একটি পরিবারকে পরিচালনা ও লালন-পালনের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি অর্জন করা।
আল্লাহ আমাদের সকল বাবাকে বরকত দান করুন, যারা ইন্তেকাল করেছেন তাঁদের ক্ষমা করুন। এবং প্রত্যেক বাবাকে সেই আমানত যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দিন, যা আল্লাহ তাঁদের কাঁধে অর্পণ করেছেন।




















