কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী পুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের নির্মম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন এবং অপ্রতীমের বাবার সঙ্গে কথা বলে তার প্রতি গভীর সহমর্মিতা ব্যক্ত করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এই সংবাদটি দেখে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। আপনার সন্তানের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা আপনাদের পরিবারকে এই কঠিন শোক কাটিয়ে ওঠার তৌফিক ও ধৈর্য দান করুন।"

একই সাথে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, "আমরা চাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।"

উল্লেখ্য, কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। অবশেষে শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং তিনি কোটবাড়ি-গন্ধমতী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশি তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে এই ঘটনায় সন্দেহভাজন তুহিন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে অপ্রতীমের মায়ের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে পুলিশ তুহিনের পাশাপাশি আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুইজনকে আটক করেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।