যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে এবং তাকে হত্যা করার জন্য সমর্থকদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। সোমবার প্রকাশিত ফারসি ভাষার এই ভিডিও ক্লিপটিতে মেলানিয়া ট্রাম্পকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যার জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংস এক নীল নকশার কথা বলা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে যে, ফার্স্ট লেডির ব্যক্তিগত স্টাইলিস্টদের মোটা অঙ্কের অর্থ বা ঘুষ দিয়ে প্রলুব্ধ করা হোক, যাতে তারা মেলানিয়ার পোশাকে বিষ প্রয়োগের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে ভিডিওটিতে ম্যানহাটনের মিডটাউনের বেশ কয়েকটি নামী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফার্স্ট লেডি নিয়মিত কেনাকাটা করতে যান এবং সেখানে হামলা চালানোর উসকানি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই ভিডিওটি তৈরি করতে প্রকাশ্যে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করা হয়েছে। ভিডিওতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেলানিয়া ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফরের আগে নিরাপত্তার স্বার্থে রাস্তার ময়লার ক্যান সরিয়ে ফেলাসহ যেসব আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেই গোপন তথ্যগুলো ব্যবহার করে হামলা চালানো সহজ করা সম্ভব। তথাকথিত ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের’ প্রতি আহ্বান জানিয়ে ভিডিওতে বলা হয়েছে, ফার্স্ট লেডিকে হত্যার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী স্নায়ু ধ্বংসকারী রাসায়নিক উপাদান বা ‘নার্ভ এজেন্ট’ ব্যবহার করা হোক। এই ভিডিওর মাধ্যমে কেবল মেলানিয়া ট্রাম্পই নন, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকেও সরাসরি মারাত্মক পরিণতি ভোগ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটির শেষ পর্যায়ে অত্যন্ত আক্রোশপূর্ণ কণ্ঠে কথক বলেন, ‘এটি কেবল শুরু; ব্যারন ট্রাম্প, আমাদের জন্য অপেক্ষা করো!’ উল্লেখ্য যে, ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে ওয়াশিংটনের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির পরিচয় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। এই সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্সটি আইআরজিসির এক সাবেক কমান্ডারের প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থার নামে নিবন্ধিত এবং বিশ্বজুড়ে এটিকে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। শিয়া ধর্মভিত্তিক এই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ২০২৩ সালে মার্কিন সরকার তাসনিম নিউজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আগেও ইরান একাধিকবার সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। চলতি মাসের শুরুতেই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছু অত্যন্ত স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করা হয়েছিল, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ইরানের এক গোপন হত্যা পরিকল্পনার কথা উঠে আসে।
কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান নিজেই সাংবাদিকদের সামনে ইরানের এই মারমুখী এবং আক্রমণাত্মক অবস্থানের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতা অর্থাৎ আমাকে শেষ করে দিতে চায় এবং তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় আমি এক নম্বরে আছি। তিনি আরও যোগ করেন যে, এ পর্যন্ত হয়তো ভাগ্যের জোরে তিনি বেঁচে ছিলেন, তবে এই ভাগ্য সবসময় সাথে নাও থাকতে পারে। এছাড়া ২০২৪ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ এক তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল যে, ওই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য আইআরজিসি অত্যন্ত গভীর ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মাঝে যখন কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে শান্তি ফেরার খবর আসছিল, ঠিক তখনই তাসনিম নিউজের এই নতুন ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।










