চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চাঁন্দগাওয়ে অবস্থিত চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ—এই তিনটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী, ১ হাজার শিক্ষক, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ২০০ জন রোগী ও তাদের স্বজনের ব্যাপক যাতায়াত থাকে। কিন্তু অত্যন্ত জরুরি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশমুখে এবং সামনের রাস্তায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ অস্থায়ী স্থাপনা, যা বর্তমানে চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ স্থাপনাগুলো এখন কিশোর গ্যাং, মাদকসেবী, বখাটে এবং ছিনতাইকারীদের আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী ও রোগীর মহিলা স্বজনদের জন্য এই এলাকাটি হয়ে উঠেছে চরম অনিরাপদ। প্রতিনিয়ত ইভটিজিং এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে তাদের হয়রানি করছে এই বখাটে চক্র। এর ফলে শিক্ষার্থী এবং সাধারণ রোগীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এই অসহনীয় পরিস্থিতির কথা জানিয়ে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের চাঁন্দগাও থানায় ‘অবৈধ দোকানপাট কেন্দ্রিক মাদকসেবন, ইভটিজিং ও ছিনতাই প্রসঙ্গে’ একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধ দোকানপাটগুলোকে কেন্দ্র করে ইভটিজাররা মেডিকেল, ডেন্টাল ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীর মহিলা স্বজনদের লক্ষ্য করে প্রতিনিয়ত অশ্লীল আচরণ ও হয়রানি করছে। এছাড়া রাতের আঁধারে এসব স্থাপনা মাদকসেবন ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এলাকাটিকে নিরাপদ করতে এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ করতে অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের মূল ফটক এবং সামনের সড়কজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোর কারণে পরিবেশ অত্যন্ত ভীতিকর ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী ২ থেকে ৪ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করবেন। সেই আগে হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডা. সবুজ একটি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক ও সীমানা সংলগ্ন এলাকায় যানজট নিরসন এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের কোনো শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা থাকলে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো কর্মী এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তবে বিধি অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হবে।

এদিকে, চাঁন্দগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের কাছে একটি আবেদন জমা পড়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনের সমস্যাগুলো নিয়ে তারা অবগত হয়েছেন। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।