কলকাতায় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ। আজ ২৮ শে জুলাই, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার সময় শিক্ষা সংস্কৃতি ও সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বানে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। শিয়ালদা এবং হাওড়া স্টেশনে পৃথকভাবে জমায়েত হয়ে অংশগ্রহণকারীরা এক সংহতি গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। গত ২৪ শে জুলাই বামপন্থী সংগঠনগুলোর আয়োজিত মিছিলে ছাত্র এবং যুব সাংবাদিকদের ওপর যে অমানবিক হামলা চালানো হয়েছে এবং যেভাবে তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই ধরণের হামলা কেবল সাংবাদিকদের ওপর নয়, বরং দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এই চক্রান্তকে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করতেই আজকের এই গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
এই বিশাল মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন কয়েক হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মচারী। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি এবিভিপি (ABVP) এবং এ বি আর এস এম (ABRSM)-এর সদস্যরাও এই প্রতিবাদ মিছিলে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, যা এই আন্দোলনের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এই সংহতির জন্য সকল অংশগ্রহণকারীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। বক্তারা ক্ষোভের সাথে জানান, মিছিলের আড়ালে যেভাবে পরিকল্পিত হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি পোস্টারে অত্যন্ত কুৎসিত ও অপমানজনকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ সম্মান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
মিছিলের বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন ও প্রভাব কেবল দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও তা দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। শিক্ষার নামে বা শিক্ষাঙ্গনকে হাতিয়ার করে যদি রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তবে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং সময়মতো তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি এবং নেপথ্যে থেকে উসকানি প্রদানকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। দাবি করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী—উভয়েই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
বিশেষ করে, যারা নিরপেক্ষভাবে সত্য সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাঁদের 'গদি মিডিয়া' বলে কটাক্ষ করে হেনস্থা করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই হেনস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং বলা হয় যে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।
মিছিলের প্রভাবে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং থেকে শুরু করে লেনিন মূর্তি এবং রানি রাসমণি এলাকা পর্যন্ত যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পথচলতি মানুষ ও যানবাহন দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন। তবে প্রশাসনিক সহযোগিতার ফলে মিছিলটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছিল 'বন্দে মাতরম' স্লোগান।
প্রতিবেদন: সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ।









