ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারত সরকার তার এই নিয়োগে আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'হিন্দুস্তান টাইমস'। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

আসাদ আলম সিয়াম ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দিয়ে তার কূটনৈতিক জীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি দেশে এবং বিদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও এক বছরের কম সময় দায়িত্ব পালন করার পর ২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিযুক্ত হন।

তার অভিজ্ঞতার তালিকায় আরও রয়েছে ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নবিষয়ক অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরের পরিচালক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারত মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের যে প্রচেষ্টা বর্তমানে চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লিতে আসাদ আলম সিয়ামের এই নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পরবর্তী পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর নাম বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে।

নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর আসাদ আলম সিয়ামকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে তা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়টিও তার দায়িত্বের একটি বিশেষ অংশ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন বিরাজ করছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও দুই দেশই পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।