রাজধানীর গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশানের কেএফসি গলিতে হঠাৎ অবস্থান নেয় ওই নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কর্মী ও সমর্থক। সেখানে থেকে মাত্র ১১ সেকেন্ডের একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করা হলে আশপাশের এলাকায় নিমেষেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পুলিশের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে মুহূর্তেই মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায় এবং এলাকার পরিবেশ পুনরায় স্বাভাবিক হয়। পুলিশ ধাওয়া করলে পালানোর সময় মিছিলকারীরা গলির মুখে পাঁচটি সক্রিয় ককটেল ফেলে রেখে যায়, যা পরবর্তীতে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুইজনকে।

ঘটনা প্রসঙ্গে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানান, এটি ছিল মাত্র ১১ সেকেন্ডের একটি ঝটিকা মিছিল। এতে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কর্মী-সমর্থকই ঢাকার বাইরের বাসিন্দা বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িত বাকিদের চিহ্নিত করতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি গুলশান থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম ঘোষণা করার পর থেকেই দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক নেতাকর্মীর দাবি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আনা হোক।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, দলের ভেতরে বিদ্যমান এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ও টানাপোড়েনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেকোনো মুহূর্তে দেশজুড়ে বড় ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।