সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৭ নম্বর নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আজ ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে নবীনগর বাজার এলাকা থেকে সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর নবীনগর থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর নবীনগর-রাধিকা সড়কের কনিকারা সেতুর পূর্ব পাশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন—এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় ধাওয়া করে মো. রাজিব (৩২) ও মো. জামাল হোসেন (৪২) নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ২২টি ইটের টুকরা ও ১৫টি বাঁশের লাঠি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্তে মো. সোহেল মিয়ার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর এ ঘটনায় নবীনগর থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর (সংশোধনী ২০১৩) ৬, ১০, ১১ ও ১২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক খন্দকার মো. আজাদুল ইসলাম আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত সোহেল মিয়া এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন।
জামিনে মুক্তি পেলে তিনি আত্মগোপন বা পালিয়ে যেতে পারেন এবং মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। এই আশঙ্কায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সোহেল মিয়া নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের মো. মোখলেছুর রহমান ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে।
গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী জানান, সুনির্দিষ্ট মামলায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আজ শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।















