সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর
ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সম্প্রতি সচিবালয়সহ বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত ওই সভায় তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে, বিশেষ করে এক সপ্তাহের মধ্যে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জামায়াত ও এনসিপির এই মব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে পরাজিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার অপচেষ্টা চালাতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, জামায়াতে ইসলামী ঐতিহাসিকভাবেই একটি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। তাই এই ধরনের অগণতান্ত্রিক এবং উসকানিমূলক পথে তারা কখনোই দেশের ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তার মতে, যদি তারা সত্যিকার অর্থে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, তবে তাদের অন্তত ১০ বছর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে হবে এবং যথাযথভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
সভার বক্তব্যে রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য। তাদের আর দেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে জামায়াত ও এনসিপি যেভাবে মব সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে, তা প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের জন্য ফেরার পথ সহজ করে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, তা শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হবে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন যে, বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও রেহাই পাবে না এবং দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের কালো অধ্যায় ফিরে আসতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি ইতিমধ্যে প্রার্থী দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্যরা এই বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপর পূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রধানমন্ত্রী তার সহজাত মেধা, যোগ্যতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত ও এনসিপি জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রার্থী দিচ্ছে না। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সৌন্দর্য বজায় রাখতে তারা যেন প্রার্থী দেয়, সেটাই আমরা প্রত্যাশা করি। সকলের অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং রাজনৈতিক পরিপক্কতা বৃদ্ধি করে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি এম রায়হান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান শেখর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।







