ভোলার মনপুরা উপজেলায় বন্ধুর বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীকে ছুরি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. তানজিলের বিরুদ্ধে। এই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশ তানজিলকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূকে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মনপুরা উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া গ্রামে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত মো. তানজিল (২৬) ওই গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা এবং মনপুরা উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী এবং অভিযুক্ত তানজিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ঘটনার রাতে গৃহবধূর স্বামী বাড়ির বাইরে থাকায় তানজিল সেই সুযোগে কৌশলে ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি গৃহবধূর গলায় ছুরি ধরে তাকে ভয় দেখান এবং চিৎকার করলে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। কাজ শেষে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এজাহার অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্বামী বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে আসীন হলে ভুক্তভোগী তাকে পুরো বিষয়টি জানান। এরপর তিনি প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তানজিলকে আটক করে। শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে তানজিলসহ আরও একজনের বিরুদ্ধে মনপুরা থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর গভীর শোকে ও ক্ষোভে আচ্ছন্ন ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘সে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়েও এমন নিকৃষ্টতম কাজ করেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’

এই বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতের নির্দেশে ভোলা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে ভোলা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।