সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে। তবে এই তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদ প্রকৃতপক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কি না, তা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের স্থানীয় আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি কারামুক্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুবাই-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আদালত তাকে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছেন। সেই শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ব্যতীত তিনি কোনোভাবেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া যতদিন চলবে, ততদিন এই শর্তগুলো কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, বেনজীর আহমেদের জামিন বা মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পৌঁছায়নি। ফলে এই বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে এই বিষয়টি জানানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে স্পষ্ট করা হয় যে, দুবাই পুলিশের সক্রিয় সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেনজীর আহমেদের নামও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।









