জাকির ফরাজী

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতার ওপর বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্ট জামায়াত নেতা আলহাজ্ব শামীম সাঈদী এবং পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহিরুল হক।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২ আগস্ট) সকালে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে 'গণতন্ত্র মুক্ত দিবস' উপলক্ষে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সভাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন ভান্ডারিয়া পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন এবং ধাওয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নাছির উদ্দিন।

আহতদের দাবি, সভায় একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালীন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এইচ এম শামীম এবং বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। সভা শেষে তারা যখন উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে আসছিলেন, তখন পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর দুই দফায় হামলা চালানো হয়। এতে তারা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাদের দ্রুত ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর এক কড়া বিবৃতিতে আলহাজ্ব শামীম সাঈদী বলেন, "হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। হামলা, মামলা ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনা টিকতে পারেনি, একইভাবে নব্য ফ্যাসিস্টরাও টিকতে পারবে না। প্রশাসনের উচিত অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।"

একইভাবে, এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহিরুল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে, ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে রোববার আসরের নামাজের পর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ভান্ডারিয়া শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।