ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য এবং নিউজ২৪-এর সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মাসুদা খাতুন (মাসুদা লাবনী)-কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছে ডিআরইউ।

মঙ্গলবার ডিআরইউ-এর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই বিবৃতির মাধ্যমে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের হুমকি, হয়রানি এবং শারীরিক ও মানসিক হামলার শিকার হচ্ছেন, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বলা হয়, নিউজ২৪-এর সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মাসুদা খাতুনকে তেজস হালদার যশ নামক এক ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দের মতে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কোনো বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ বা প্রচারের কারণে একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া কেবল সেই ব্যক্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে না, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য একটি সরাসরি হুমকি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমে মুক্ত পরিবেশ নষ্ট করে এবং সাংবাদিকদের মনে ভীতির সঞ্চার করে, যা শেষ পর্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সাংবাদিক মাসুদা খাতুন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ দাবি জানিয়েছেন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে এই অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে এবং হুমকিদাতার দ্রুত গ্রেপ্তারসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল, সতর্ক এবং কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তারা মনে করেন।