চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বসতবাড়ির গেটে গুলিবর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় অবস্থিত ১১তলা বিশিষ্ট ‘রুনা টাওয়ার’ ভবনে এই আতঙ্কজনক ঘটনাটি ঘটে।
ভবনটির দারোয়ান মো. আলমগীর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে দুই যুবক হঠাৎ করে বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হয়। তারা তাকে নির্দেশ দেয় যেন তিনি দ্রুত ভেতরে গিয়ে গেটটি বন্ধ করে দেন। আলমগীর ভেতরে যেতেই দুর্বৃত্তরা ভবনের গেট লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তা শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
তদন্তে জানা গেছে, ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ, যার দুই ছেলে প্রবাসী ব্যবসায়ী। তাদের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। মোহাম্মদ ইউসুফ নিষিদ্ধ ঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন আজিজ।
ভবন মালিক ইউসুফ সাংবাদিকদের জানান, হামলার আগে ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে তার ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। সেই বার্তায় দাবি করা হয়, ইউসুফের ছেলেমেয়েরা কোথায় থাকেন এবং তাদের জীবনবৃত্তান্ত ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা। সেখানে এক ঘণ্টার মধ্যে ‘বড় ভাইয়ের’ কথামতো ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয় এবং অন্যথায় মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে সম্প্রতি এ ধরণের চাঁদাবাজির প্রবণতা বেড়েছে। গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর পরবর্তীতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানা গেছে।









