রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক যুগ আগে স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার মেরীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামী মো. আব্দুর রহিমকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার পাঁচ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এলিনা আক্তার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার আগে আব্দুর রহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই আদালত খালাসের আদেশ প্রদান করেন। তবে এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেনি রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শরীফুল ইসলাম লিটন জানান, খালাসের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের নিজ বাসায় ফেরেন আব্দুর রহিম। ওই সময়ে স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার মেরীর সঙ্গে তার তীব্র কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। অভিযোগ ছিল, একপর্যায়ে মেরী তার স্বামীকে ধমক দিলে রহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গলা টিপে দেয়ালে চেপে ধরেন এবং লাথি মেরে ফেলে দেন। এরপর তাকে খাটে শুইয়ে বুকের ওপর বসে মুখ চেপে ধরে রাখা হয় বলে মামলায় উল্লেখ ছিল। পরদিন সকালে খাটের ওপর মেরীর নিথর লাশ পাওয়া যায়।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মেরীর মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে স্বামী আব্দুর রহিম, তার শাশুড়ি রানী এবং শ্বশুর আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত ওই অভিযোগটি মোহাম্মদপুর থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে এবং তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে।

পুলিশের এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী পক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করেন। এরপর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেন। সিআইডির পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক খান তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল আব্দুর রহিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন, তবে রহিমের মা-বাবাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, আত্মপক্ষ সমর্থনে আব্দুর রহিম নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন এবং তার পক্ষে তিনজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন। সব মিলিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত তাকে খালাস প্রদান করেন।