চট্টগ্রামের খুলশী থানার অভিজাত কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে অনলাইন স্ক্যামিং বা ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত সন্দেহে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অর্ধশতাধিক ল্যাপটপ, শতাধিক মোবাইল ফোন এবং আরও অনেক আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই ভবনে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর শুক্রবার দুপুরে আটককৃত বিদেশি নাগরিকদের ভবনটি থেকে সরিয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, গত ১৮ আগস্ট ওই আটতলা ভবনটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন একদল বিদেশি। এরপর থেকেই তারা ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রহস্যজনক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
ওসি আবদুর রহিম আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রটি এখানে একটি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনলাইন প্রতারণা বা স্ক্যামিং চালিয়ে যাচ্ছিল। এই ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার খপ্পরে পড়ে বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েন। উদ্ধার করা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনগুলো বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা ঠিক কী ধরনের প্রতারণা চালাত এবং এর সাথে আর কারা জড়িত, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলছে।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তবে এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনা এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক ছিলেন। সেই অভিযানে রেকর্ড সংখ্যক ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ এবং বিপুল পরিমাণ যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজারের ওই অভিযানের পর পুলিশ আরও জানায়, চীন ও তাইওয়ানের কয়েকশ নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন দুটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকেও অনলাইন প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে তারা দ্রুত কক্সবাজার থেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। চট্টগ্রামের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল প্রতারণার জন্য বাংলাদেশ এখন একটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, যা রুখতে পুলিশ আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
















