ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের (৩৮) মরদেহ অবশেষে ৪০ ঘণ্টা পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পীরগঞ্জের দানাজপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। এই স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ার সময় বাংলাদেশের পীরগঞ্জ থানা পুলিশ এবং ভারতের রায়গঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার ভোরে। পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে বিএসএফের টহল দলের সাথে সংঘাতের মুখে আসাদুল হক প্রাণ হারান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার ইন্দ্রইল গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলীর নেতৃত্বে চারজন যুবক ভারতের সীমানায় প্রবেশের জন্য তারকাঁটা তার কেটে ফেলার চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টার সময় সতর্ক বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে আসাদুল হক মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হন এবং মোস্তাকিম (৩২) ও উদা রায় (৩৪) নামে আরও দুই যুবক গুরুতর আহত হন। তবে আইয়ুব আলী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, গুলি চালানোর পর ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা আহত তিনজনকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুলের মৃত্যু হয়। নিহত আসাদুল হক ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের আলীর ছেলে। অন্যদিকে, আটক মোস্তাকিম ওই একই এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে এবং উদা মুনষা নারায়ণের ছেলে। নিখোঁজ আইয়ুব আলীও একই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত ও আহতরা সবাই তাঁর এলাকার সন্তান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর খবরটি পাওয়ার পর তাঁরা বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরবর্তীতে আহত দুজনকে বিএসএফ রায়গঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দিনাজপুর ৪২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। বিষয়টি মীমাংসা এবং মরদেহ হস্তান্তরের জন্য মোট তিন দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ এক জন নিহত এবং দুই জন আহতের কথা স্বীকার করার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে রোববার রাতে আসাদুলের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত আব্দুল হাকিম জানান, গভীর রাতে দানাজপুর সীমান্ত দিয়ে মরদেহটি গ্রহণের পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা নিহত আসাদুলের শোকসন্তপ্ত স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।



















