ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর ও লেটারহেড ব্যবহার: এসি (ভূমি) সুমনের বিরুদ্ধে মামলা

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের জাল স্বাক্ষর এবং সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে বদলি ঠেকানোর চেষ্টা ও কাঙ্ক্ষিত পদে পদায়নের অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে। এই গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ উপবিভাগ-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শাওন মজুমদার সুমনকে এই ঘটনার প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত শাওন মজুমদার ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর এবং সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ভুয়া আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি প্রস্তুত করেন। এই জাল নথির মাধ্যমে তিনি নিজের বদলির আদেশ পরিবর্তন করে পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের চেষ্টা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, শাওন মজুমদারকে বরগুনা সদর উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। তবে ওই জাল ডিও চিঠিতে এই বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের অনুরোধ জানানো হয়। সংসদ সচিবালয় চিঠিটি প্রাপ্তির পর দ্রুত যাচাই-বাছাই শুরু করে এবং নিশ্চিত হয় যে, তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো চিঠি ইস্যু করা হয়নি। তদন্তে আরও দেখা যায়, চিঠিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষাশৈলী, বিন্যাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংসদ সচিবালয়ের মূল নথির সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রতারণামূলকভাবে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার পেছনে একটি সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইলের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, ভুয়া নথির মুদ্রণের উৎস শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দণ্ডবিধির জালিয়াতি, জাল নথি আসল হিসেবে ব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ডিও চিঠির অনুলিপি এবং সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত লেটারহেডের নমুনাসহ সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।