দীর্ঘদিন ধরে রুপালি পর্দার ঝলমলে আলো থেকে দূরে সরে গিয়ে পারিবারিক জীবন ও সংসারের মায়াজালে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। তবে পর্দার আড়ালে তার বিবাহিত জীবন এবং এক সন্তানের জননী হওয়ার খবর ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। সম্প্রতি তার অতীতের একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও চর্চা শুরু হয়েছে।

গত সোমবার (৩১ আগস্ট) অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয় পপির একটি পুরনো বক্তব্যের সংবলিত একটি ফটোকার্ড তার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করেন। ওই ফটোকার্ডে পপির কথাগুলো ছিল অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও আধ্যাত্মিক। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘যতটুকু পাপ কামাইছি সব ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই। আর যে কয়দিন বাঁচব হেদায়াতের জন্য আল্লাহ-খোদার নাম করে যাব।’

পপির এই কথাগুলো শেয়ার করে শাহরিয়ার নাজিম জয় একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান, দেশের জনপ্রিয় তারকারা কি তবে অভিনয় পেশাকে এখন পাপ হিসেবে বিবেচনা করছেন? জয় তার পোস্টে আরও লেখেন, “মৌসুমীর পর পপিও একই কথা বললেন; এখন শাবনূর ও পূর্ণিমাও এমন বললে এক জেনারেশন পূর্ণ হতো।” ভক্তদের কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সুরে লেখেন, “আপনারা সব বুঝে ভুল বুঝতে পেরেছেন, কিন্তু না বুঝে যারা আপনাদের ভক্ত হয়ে গুনাহ করেছেন, তাদের কী হবে?” বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় তারকাদের উদ্দেশ্য করেও তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে, ভবিষ্যতে তারাও কি জীবন গুছিয়ে নিয়ে একই ধরনের স্টেটমেন্ট দেবেন?

জয়ের এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এই বিতর্কে যোগ দেন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা বাপ্পারাজ। তিনি পপির বক্তব্যকে সরাসরি কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, ‘যখন ইনকাম করা হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয় আগে পাপ করেছি। ইবাদত সবসময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য না।’

এর আগে একটি ভিডিও বার্তায় পপি অত্যন্ত কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিনয় থেকে সরে আসার কারণ এবং তার অতীত জীবন নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, পরিবারের কারণে অভিনয় করতে গিয়ে তাকে অনেক মানুষের গালি শুনতে হয়েছে। সেই সময়ের করা ভুল বা পাপগুলো মুছে ফেলে তিনি সুন্দরভাবে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চান। বেঁচে থাকার বাকি দিনগুলো ঈমান ও আমলের সাথে শান্তিতে কাটানোই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য।

পপির অভিনয় জীবনের কথা মনে করলে দেখা যায়, ১৯৯৭ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। তবে তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘কুলি’, যেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন ওমর সানী। তৎকালীন সময়ে সিনেমাটি প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যবসা করে বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায় এবং পপি রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দেওয়ার পাশাপাশি তিনি একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। তবে সাফল্যের সেই সোনালী অধ্যায় এখন অতীত; বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ অন্তরালেই রয়ে গেছেন।