মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আকাশী গ্রামে পারিবারিক ও প্রতিবেশীগত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা কেবল শারীরিক নির্যাতনই করেনি, বরং ভুক্তভোগীর ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লুট করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। গুরুতর আহত বৃদ্ধকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত বৃদ্ধের নাম আব্দুর রহিম (৬৫), তিনি আকাশী গ্রামেরই স্থায়ী বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশীদের বসতবাড়ির অতি সন্নিকটে টয়লেট নির্মাণ করার ফলে সৃষ্ট তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর রহিমের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের তিক্ত সম্পর্ক ও বিরোধ চলে আসছিল। এই বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটত।
গত সোমবার সকালে এই বিরোধ চরম রূপ নেয়। জানা গেছে, আব্দুর রহিমের স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী জিয়াউর রহমানের ছেলে সিয়াম (১৮), জোয়াদ আলী (৪৫), শাহা (৪০), পারভীন এবং শেফালী (৪০) সহ আরও কয়েকজন কথা কাটাকাটিতে জড়ান। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুর রহিমের স্ত্রীর ওপর হামলার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে তিনি দ্রুত ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। তবে অভিযুক্ত সিয়াম হিংস্রভাবে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে।
সেই সময় ঘরে থাকা বৃদ্ধ আব্দুর রহিমকে লক্ষ্য করে সিয়াম তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে। এতে রহিমের বুকের পাঁজরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা ঘরের ভেতর থাকা একটি ট্রাংক ভেঙে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত আব্দুর রহিমকে দ্রুত মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এই মর্মে মধুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, "আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"






