সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: তুচ্ছ ঘটনা ও যৌতুকের অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একটি ঘটনায় রান্নার স্বাদ পছন্দ না হওয়ায় স্বামী কর্তৃক মারধরের অভিযোগ উঠেছে, আর অন্যটিতে বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস পর যৌতুকের দাবিতে নববধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৃথক এই দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় দুটি পরিবারে এখন চলছে গভীর শোক ও মাতম।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর খুকনিপাড়া গ্রামে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে আব্দুল জলিলের স্ত্রী মোছা. সালমা খাতুন (৩৫) পরিবারের জন্য খিচুড়ি রান্না করেন। তবে রান্নার স্বাদ পছন্দ না হওয়ায় স্বামী জলিল অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হন এবং স্ত্রীর সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে জলিল তার স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধর করেন। এর কিছুক্ষণ পর ঘর থেকে সালমা খাতুনকে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। সামান্য একটি খাবারের স্বাদের কারণে এমন করুণ পরিণতিতে পড়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে তালম ইউনিয়নের হাড়িসোনা গ্রামে। মো. হাসেম আলীর স্ত্রী মোছা. মীম খাতুনের (১৬) বিয়ে হয়েছিল মাত্র পাঁচ মাস আগে। তবে বিয়ের পর থেকেই সুখের বদলে শুরু হয় নির্যাতন। নিহত মীমের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার দাবিতে স্বামী হাসেম আলী এবং তার পরিবারের সদস্যরা মীমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় তীব্র ঝগড়া হয়। গভীর রাতে স্বামী হাসেম আলী ও তার পরিবার এলাকায় প্রচার চালান যে, মীম গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহত মীমের বাবা মো. ফিরোজ আহমেদ এই দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন, "আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় হাসেম তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এখন নিজেদের অপরাধ ঢাকতে মেয়ের মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে নাটক সাজানো হচ্ছে।"
এই দুটি রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান মঙ্গলবার জানান, প্রাথমিকভাবে উভয় পরিবার থেকে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









