হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা ভূমি অফিস ও বহরা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পশ্চিম পাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি বর্তমানে এক ভয়াবহ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা এই সেতুটি সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢলের তীব্র তোড়ে সেতুটির দুটি প্রধান পিলার ভেঙে পড়েছে এবং নিচের মাটি পুরোপুরি সরে যাওয়ায় পুরো কাঠামোটি এখন শূন্যে ঝুলছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং ওই পথ ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ।

সেবামুখী শত শত মানুষের একমাত্র ভরসা: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনতলা-জগদীশপুর সড়ক থেকে মনতলা ভূমি অফিস এবং উপ-স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য এই সেতুটিই একমাত্র প্রধান সংযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন সরকারি ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, মুমূর্ষু রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুসহ শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার হন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

চরম আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভ: স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা জানান, সেতুটি দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে পিলারের তলদেশের মাটি সরে যাওয়ায় সেতুর স্থায়িত্ব এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। প্রতিদিন চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই সেতুটির সংস্কার অথবা একটি নতুন টেকসই সেতু নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

ভোগান্তি লাঘব ও নিরাপত্তার দাবি: একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ যেমন লাঘব হবে, তেমনি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের যাতায়াতও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিশু, বৃদ্ধ ও মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য যাতায়াত এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য: এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সেতুর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। একই সুর উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের কণ্ঠেও। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের নিজেদেরও প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পেরিয়ে অফিসে আসতে হয়। সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।”

বিশেষজ্ঞ ও সেতু প্রকৌশলীদের মতে, পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে শূন্যে ঝুলতে থাকা এই কাঠামোটি বর্তমানে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে অতিরিক্ত লোড বা ভার পড়লে এটি ধসে পড়তে পারে। বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই অবিলম্বে সাধারণ যান ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে বাঁশের অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করা অথবা দ্রুত পাইলিংয়ের মাধ্যমে টেকসই পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা জরুরি। সম্ভাব্য বড় কোনো ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।