গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাজিরা দিতে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বগুড়ায় আনা হয়। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তানভীরকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়।
আদালতে হাজিরার আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পুনরায় ঢাকার ওই হাসপাতালে নেওয়ার কথা রয়েছে। তানভীরের আইনজীবী ও এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী জানান, তানভীর গুরুতর অসুস্থ। তার কোমর থেকে নিচের অংশ সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে ইজাজ আল ওয়াসী অভিযোগ করেন, একটি প্রকাশ্য ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে তানভীরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া এবং কারাগারে থাকার সময় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
এর পর থেকেই তানভীরের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং বর্তমানে তিনি কার্যত শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থ আসামির ক্ষেত্রে সাধারণত আদালতে সময় চাওয়া যায়। তারপরও আদালতের ধার্য তারিখে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ঝুঁকি নিয়েই তানভীরকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ায় আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তার নিয়মিত চিকিৎসাও অব্যাহত থাকবে। মামলার নথি ও আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মণিপুরীপাড়া এলাকা থেকে তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই দিনই তাকে বগুড়ার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ১০ আগস্ট আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আইনজীবীর দাবি, রিমান্ড ও কারাগারে থাকা অবস্থায় ব্রেন স্ট্রোক, প্যানিক ডিজঅর্ডার ও সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের জটিলতায় তানভীরের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়।
পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ তানভীরকে এক বছরের জামিন দেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কারাবন্দী অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনা দেন তিনি। এদিকে রোববার তার হাজিরাকে কেন্দ্র করে এনসিপির বেশ কিছু নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।
















