‘সবার জন্য চলচ্চিত্র, সবার জন্য শিল্প-সংস্কৃতি’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘চলচ্চিত্র উৎসব একাল সেকাল’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতায় রবিবার বিকেলে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে উৎসবের শুভ সূচনা হয়। তিন দিনের এই বিশেষ উৎসবে প্রতিদিন দুটি করে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কোহিনূর আখতার সুচন্দা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, দর্শকদের আগ্রহ ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর পুনরায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। এমনকি জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনেও এসব সিনেমা প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী শরৎকালে একটি বিশেষ ‘যাত্রা উৎসব’-এর আয়োজন করা হবে। যাত্রা, নাটক এবং চলচ্চিত্রের এই ধারাবাহিক প্রদর্শনী ও উৎসবগুলো অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

যুবসমাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে এই দেশ তার যুবসমাজের। যুবসমাজ হলো আগামীর সূর্যের মতো। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের যুবসমাজের একটি বড় অংশ নানা প্রতিকূলতায় পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ছে। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির অভাব এবং বিনোদনের সুস্থ পরিবেশ না থাকায় তারা হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সিনেমা হলগুলো বন্ধ থাকায় সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে, যার ফলে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকের মতো মারাত্মক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।” তিনি আরও বলেন, এই সংকট থেকে নতুন প্রজন্ম ও জাতিকে রক্ষা করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সংস্কৃতি চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুল পর্যায় থেকেই খেলাধুলা, গান, নাচ এবং চলচ্চিত্রের পাশাপাশি প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত যেমন—ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, কবিগান ও বাউল গানের চর্চাকে উৎসাহিত করা হবে।

অন্যদিকে, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সব সময় তরুণ নির্মাতাদের পাশে থাকবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান করবে। যারা সিনেমা নির্মাণে আগ্রহী, তাদের জন্য একাডেমির দরজা সব সময় খোলা। জীবনঘনিষ্ঠ ও শিল্পনির্ভর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমরা সিনেমার সেই সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে চাই, আর এজন্য তরুণদের এগিয়ে আসা জরুরি।”

উদ্বোধনী সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ এবং কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রদর্শিত হবে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান পরিচালিত ‘মাস্তল’। আগামী মঙ্গলবার সমাপনী দিনে প্রদর্শিত হবে আমজাদ হোসেনের ‘দুই পয়সার আলতা’ এবং আকাশ হক নির্মিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’।