পাহাড়ে এবার সবুজ মাল্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে রাঙামাটির হাটবাজার ছেয়ে গেছে পাহাড়ে উৎপাদিত এই সবুজ মাল্টায়। দেখতে আকর্ষণীয় এই ফল খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু। সাধারণ মাল্টার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। দামও তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, কাউখালী ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে সবুজ মাল্টার। এই মাল্টা বারি-১ নামে পরিচিত। কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ থাকলেও পাকলে গাঢ় সবুজ রং ধারণ করে ফলটি। তবে কখনো হলুদ রং হয় না। সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সবুজ মাল্টা সহজে চোখে পড়ে না। দূর থেকে বাগান দেখে বোঝার উপায় নেই, প্রতিটি গাছে কী পরিমাণ ফল ধরে আছে। মাল্টাচাষি হেমা কুমার চাকমা বলেন, পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মাল্টা চাষে সফল হয়েছেন চাষিরা। কম খরচে ব্যাপক ফলন হওয়ায় লাভও হচ্ছে বেশি। তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পাহাড়ে উৎপাদিত মাল্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাঙামাটির চাহিদা মিটিয়ে এসব মাল্টা এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামেও সরবরাহ করা হচ্ছে। রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দেশীয় মাল্টার চাষ। পাশাপাশি ফলনও হচ্ছে ব্যাপক হারে। ইতোমধ্যে সফলতা পেয়েছেন রাঙামাটির শুকরছড়ি গ্রামের অনেক মাল্টাচাষি। ফলে পাহাড়ি কৃষকদের মধ্যে মাল্টা চাষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। পাহাড়ে উৎপাদিত এসব মাল্টার চাহিদা ব্যাপক। রাঙামাটি জেলায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হেক্টর জমিতে মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষকরা। পাহাড়ি মাটি উর্বর হওয়ায় এবং সঠিক পরিচর্যার ফলে সহজেই বেড়ে উঠছে মাল্টাগাছ। হেক্টরপ্রতি প্রায় ১২ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদিত হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এসব মাল্টা বিক্রি করে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন চাষিরা। পাহাড়ে জুম চাষের পরিবর্তে অনেক কৃষক এখন মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাহাড়ে উৎপাদিত দেশীয় মাল্টার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন স্থানীয় কৃষকরা। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিনরুজ্জামান বলেন, পাহাড়ে উৎপাদিত মাল্টার নাম বারি মাল্টা-১। অন্যান্য মাল্টার রং হলুদ হলেও পাহাড়ের মাল্টা দেখতে সবুজ। খেতে সুস্বাদু, রসালো ও মিষ্টি এই মাল্টার চাহিদা অনেক বেশি। তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষি বিভাগ মাল্টাচাষিদের নিয়মিত সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। হেম কুমার চাকমার মতো অনেকেই এখানে মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন। চাহিদা বেশি থাকায় সহজেই বাজারজাত করা যায়। পাহাড়ি জমিতে মাল্টা চাষ সম্প্রসারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চারা বিতরণ করে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।