দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী রোববার (২৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে যাবেন বলে জানানো হয়েছে। তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে তিনি বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার বঙ্গভবনের ২ নম্বর গেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল অভ্যর্থনা জানাবে এবং তাকে ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপ্রধানকে যথাযথ মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাষ্ট্রপতি সরাসরি বঙ্গভবনে তার নির্ধারিত কার্যালয়ে প্রবেশ করবেন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন।

এর আগে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুনরায় মিন্টো রোডের বাসভবনে ফিরবেন এবং পরবর্তীতে তার গুলশানের বাসভবনে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৈধ ব্যালটের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। সর্বোচ্চসংখ্যক ভোট প্রাপ্তির পর যথাযথ আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধ চিত্তে শপথ বা দৃঢ় চিত্তে ঘোষণা করছি যে, আমি আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিবো। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিবো। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিবো এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিবো।’