দীর্ঘ আট বছরের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিরতির পর অবশেষে রুপালি পর্দায় ফিরে এলেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। তবে দীর্ঘ সময় ক্যামেরার বাইরে থাকার কারণে প্রথম দিন শুটিং সেটে গিয়ে তিনি তীব্র মানসিক উদ্বেগ এবং নার্ভাসনেসে ভুগেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী স্বীকার করেছেন যে, ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমার প্রথম দিনেই পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী তার হাতে ছবির সবচেয়ে জটিল এবং কঠিন দৃশ্যটি তুলে দিয়েছিলেন, যা তাকে মানসিকভাবে বেশ বিপর করে তোলে। সেই চরম মুহূর্তের ভয় এবং উদ্বেগে তিনি রীতিমতো কাঁপছিলেন বলে জানান প্রীতি। তবে এই কঠিন সময়ে সহ-অভিনেতা সানি দেওলের অসামান্য মানবিকতা এবং আন্তরিক সহযোগিতার হাতই তাকে পুনরায় আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
প্রীতি জানান, দীর্ঘ আট বছরের ব্যবধানে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতে পুনরায় মানিয়ে নেওয়াটা মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে প্রথম দিনেই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দৃশ্যটি চিত্রগ্রহণের সিদ্ধান্ত পরিচালক সন্তোষীর ছিল, যা প্রীতিকে ঘাবড়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, যখন তিনি ভয়ে কাঁপছিলেন, তখন সানি দেওল তার পাশে এক পরম ভরসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সানি তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে, চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ পরিচালক সন্তোষী বারবার রিটেক নিতে পছন্দ করেন এবং নিখুঁত কাজ চান। সেটে সানির এই উদার মন এবং ইতিবাচক উপস্থিতি প্রীতির উদ্বেগ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছিল। একটানা সারা রাত ধরে শুটিং করার পর ধীরে ধীরে তিনি পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেন এবং সবকিছু সহজ হয়ে আসে।
দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র জগৎ থেকে দূরে থাকলেও প্রীতি জানান, মন থেকে তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করেননি। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ভাইয়াজি সুপারহিট’ ছিল তার শেষ চলচ্চিত্র, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সানি দেওল। প্রীতি বলেন, এই আট বছরের দীর্ঘ বিরতিতে তিনি চলচ্চিত্র জীবন মিস করেননি, কারণ এই সময়ে তিনি তার পরিবার এবং সন্তানদের নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। জীবনের অনেক পেশাদার সাফল্য থাকলেও, সন্তান জন্ম দেওয়া এবং তাদের সঠিকভাবে বড় করে তোলাকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সেরা মাইলফলক হিসেবে মনে করেন। প্রীতি আরও জানান, একজন মা হওয়ার সেই গভীর আবেগই মূলত ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমায় তার চরিত্রটির মানসিক গভীরতা এবং অনুভূতিগুলো বুঝতে তাকে সাহায্য করেছে।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের সেই রক্তাক্ত ও বেদনাদায়ক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় প্রীতি এক মুসলিম নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং সানি দেওল অভিনয় করেছেন তার স্বামীর চরিত্রে। গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে দেখা যাবে দেশভাগের চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে লাহোরে নিজ বাড়িতে এক হিন্দু নারীকে আশ্রয় দেওয়ার মানবিক গল্প। প্রীতি বিশ্বাস করেন, আজকের বিশ্বায়নের যুগেও পরিবারই তার কাছে প্রথম অগ্রাধিকার। ১৯৪৭ সালের সেই কঠিন সময়ে একজন নারীর নিজের পরিবার এবং নৈতিকতাকে রক্ষা করার মনস্তত্ত্ব বুঝতে তার মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা দারুণ ভূমিকা রেখেছে।
আমির খান প্রোডাকশনস এবং রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় নির্মিত এই বিগ বাজেট চলচ্চিত্রে সানি দেওল ও প্রীতি জিনতা ছাড়াও অভিনয় করেছেন শাবানা আজমি, করণ দেওল, আলি ফজল, অভিমন্যু সিং, খুশি হাজারে এবং কানিকা কাপুর। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত সুরকার এ আর রহমান এবং গান লিখেছেন কালজয়ী গীতিকার জাভেদ আখতার। সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) থেকে কোনো প্রকার কাটছাঁট ছাড়াই সরাসরি ছাড়পত্র পাওয়া এই সিনেমাটি আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।











