বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী এবং শীর্ষ তারকা অক্ষয় কুমার। তবে আজকের এই জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘ বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং প্রবল সংগ্রামের ইতিহাস। সম্প্রতি ‘হিন্দি রাশ’-এর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে প্রবীণ অভিনেতা অবিনাশ ওয়াধাওয়ান স্মৃতিচারণ করেছেন অক্ষয় কুমারের সেই নাম-যশহীন দিনগুলোর কথা। একজন উঠতি অভিনেতা হিসেবে অক্ষয়ের শুরুর দিকের লড়াই এবং জীবনযুদ্ধের নানা অজানা দিক খোলামেলাভাবে সামনে এনেছেন তিনি।

পডকাস্টে আলাপচারিতার সময় অবিনাশ জানান, তিনি অক্ষয়কে এমন এক সময়ে চিনতেন যখন তারা কেউই ইন্ডাস্ট্রিতে নায়ক হয়ে ওঠেননি। সেই সময়ে তারা একে অপরের খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, তখন তাদের পরিচয় ছিল ছদ্মনামে; অক্ষয়ের নাম ছিল রাজীব আর অবিনাশের নাম ছিল রাকেশ। তারা দুজনই লোকখণ্ডওয়ালায় থাকতেন। আর্থিক টানাপোড়েনের সেই দিনগুলোতে পেট্রোলের খরচ বাঁচানোর জন্য তারা এক অভিনব উপায় বের করেছিলেন। দুজনেরই মোটরসাইকেল ছিল, তাই কখনো অক্ষয় অবিনাশের বাইক চালাতেন, আবার কখনো অবিনাশ ব্যবহার করতেন অক্ষয়ের বাইক। এভাবে তারা নিজেদের যাতায়াত খরচ কমিয়ে আনতেন।

কেবল যাতায়াত নয়, ফটোশুটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে ছিল গভীর সহযোগিতা। অবিনাশ স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখনই অক্ষয়ের কোনো ফটোশুটের কাজ থাকত, তিনি অবিনাশের বাড়িতে এসে জ্যাকেট ধার করে নিয়ে যেতেন। একইভাবে, অবিনাশের কোনো ফটোশুটের প্রয়োজন হলে তিনি অক্ষয়ের বাড়ি থেকে জ্যাকেট নিয়ে আসতেন। এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে, আজকের সুপারস্টার হয়ে ওঠার আগে অক্ষয়কেও কতটা সাধারণ মধ্যবিত্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

অক্ষয়ের ফিটনেস এবং মার্শাল আর্টের প্রতি তার অদম্য প্যাশনের কথা উল্লেখ করতে ভুলেননি অবিনাশ। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অক্ষয় অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং তার কাছে ব্ল্যাক বেল্টসহ বিভিন্ন ডিগ্রি ছিল। এমনকি তারা একসঙ্গে নাচের ক্লাসেও যেতেন। তবে অক্ষয়ের প্রাত্যহিক রুটিন ছিল অত্যন্ত কঠোর। অবিনাশ বলেন, অক্ষয় ছিলেন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠা মানুষ। সেই সময় অবিনাশ পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। ভোর ৬টার দিকে যখন তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকতেন, ঠিক তখনই অক্ষয় তাকে জাগিয়ে তুলতে আসতেন। ভারসোভার ‘নানা-নানি পার্ক’ নামক একটি জায়গায় অক্ষয় নিয়মিত মার্শাল আর্টসের অনুশীলন করতেন। তিনি অবিনাশকেও সঙ্গে নিতে চাইতেন, কিন্তু এত ভোরে ঘুম থেকে ওঠা অবিনাশের পক্ষে সম্ভব হতো না।

পাহাড়ি শহর উটিতে শুটিং চলাকালীন একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন অবিনাশ। সেখানে তারা দুটি ভিন্ন সিনেমার কাজে একই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। অবিনাশের শিফট শুরু হতো সকাল ৭টায়, তাই তিনি দ্রুত তৈরি হয়ে সেটে বেরিয়ে পড়তেন। অন্যদিকে, অক্ষয়ের কাজ শুরু হতো সকাল ৯টায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিদিন সকাল ৬টায় উটির রাস্তায় তাকে জগিং করতে দেখা যেত। সকাল ৯টার আগে কোনো কাজ না থাকা সত্ত্বেও সেটে যাওয়ার পথে অবিনাশ দেখতেন অক্ষয় রাস্তায় দৌড়াচ্ছেন। তার এই অসামান্য শৃঙ্খলা এবং নিয়মানুবর্তিতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল।

অবিনাশ আরও জানান, সময়ের ব্যাপারে অক্ষয় ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। কাজ শেষ হওয়া মাত্রই তিনি সোজা বাড়ি ফিরতেন এবং পরদিন নির্ধারিত সময়ে সেটে পৌঁছে যেতেন। পেশাদারিত্বের এই গুণটিই তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তবে বর্তমানে তাদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা জানতে চাওয়া হলে অবিনাশ কিছুটা আক্ষেপের সুরে জানান, সময়ের সাথে সাথে তাদের জীবন ভিন্ন ভিন্ন পথে চলে গেছে। তিনি বলেন, অক্ষয়ের জীবন এখন অন্য উচ্চতায়, আর তিনি নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত। দীর্ঘ বহু বছর ধরে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। প্রায় ৫-৬ বছর আগে একবার ফোনে কথা হয়েছিল, কিন্তু এরপর নম্বর বদলে যাওয়ায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য যে, প্রবীণ অভিনেতা অবিনাশ ওয়াধাওয়ান ‘জুনুন’, ‘গীত’ এবং ‘বালমা’-র মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ‘বালিকা বধূ’ ও ‘সাপনা বাবুল কা... বিদাই’-এর মতো জনপ্রিয় হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি