জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেছেন যে, তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু দিতে পারবেন না। তার মতে, তারেক রহমানের কোনো ভবিষ্যৎ নেই; ভবিষ্যৎ কেবল বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের পতনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং তিনি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। শেখ হাসিনার মতো তারেক রহমানকেও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং তার বিচার হবে; এখানে কোনো ধরনের আপস বা নেগোসিয়েশন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ্যসমূহ পূর্ণ বাস্তবায়ন করেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক গণ-সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন এবং ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের’ দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তারেক রহমান বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন না। রাজপথে লড়াই করেছেন কৃষক, মজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, গৃহিণী, আলেম এবং ছাত্রসমাজ। সেই কঠিন সময়ে তারেক রহমানের কোনো অস্তিত্ব বা ছায়া রাজপথে দেখা যায়নি। অথচ এখন তিনি দেশে ফিরে সব পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করার আগেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আপনাকে যদি ক্ষমতায় থাকতে হয়, তবে অবশ্যই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেদিনের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। বেলা ১২টার দিকে পুরো বাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে ছিল এবং চারদিকে সেনাবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল। তিনি জানান, তিনি এবং নাহিদ একটি বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। বাইরে বের হতে চাইলে তাদের সতর্ক করা হয় যে, বের হলেই গুলি করা হবে। পরিস্থিতি যাচাই করতে বাসার নিচে অবস্থানরত একজন শিক্ষককে পাঠানো হলে তিনি জানান, বাইরে বের হওয়ার কোনো পথ খোলা নেই। সেই সকালে শহীদ মিনারে অবস্থান নেওয়া অনেক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে জাগ্রত জনতা সব বাধা ও ব্যারিকেড ভেঙে রাজপথে নেমে আসেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, শেখ হাসিনাকে শেষ মুহূর্তে মাত্র পাঁচ মিনিটের সময় দেওয়া হয়েছিল—হয় তিনি দেশে থেকে জীবন দেবেন, অথবা ভারতে পালিয়ে যাবেন।










