বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৪ সালের বিপ্লবের পর দেশে এক ধরনের 'নব্য ফ্যাসিবাদ' মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যার প্রভাব থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনে হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাস কোনোভাবেই শিক্ষাঙ্গনে চলতে দেওয়া হবে না।

বুধবার দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশের মূল দাবি ছিল—আয়েজিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। সমাবেশে উপস্থিত জনতার সামনে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যে নতুন ফ্যাসিবাদ শুরু হয়েছে, তা এখনই রুখতে হবে। অন্যথায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের চেয়েও দ্বিগুণ মানুষকে জীবন দিতে হতে পারে।

বিএনপি-র প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিকে আমি বলব, আপনারা একসময় মজলুম ছিলেন, কিন্তু এখন জুলুমকারীতে পরিণত হয়েছেন। যদি আপনারা এই ফ্যাসিবাদ থেকে ফিরে না আসেন, তবে আমরা আপনাদের জুলুমের হাত ভেঙে দেব।’

গণভোটের বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এ বিষয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। তিনি দাবি করেন, এই রায় ৭০ শতাংশ জনগণের আকাঙ্ক্ষা, এটি শাপলা চত্বরের শহীদদের এবং ৫৭ জন শহীদ সেনা অফিসারের রক্তের দাবি। ২০২৪ সালের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই রায় বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারকে আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই সনদকে অসম্মান করা হয়, তবে এর সম্মান রক্ষায় তারা শপথ গ্রহণ করবেন।

আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে যখন ক্বওমি ছাত্ররা মাঠে নামে, তখন অনেকে প্রশ্ন করেছিলেন তারা কেন নামছে। তখন তারা জানিয়েছিল, তারা চাকরির জন্য নয়, বরং স্কুল-কলেজের ভাইদের বুকে কেন গুলি করা হলো তার জবাব দিতে নেমেছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, ভবিষ্যতেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাগুলো থেকে আবারও ‘আবাবিল’ নেমে আসবে।