প্রথম টেস্টের হতাশা এবং তিক্ত অভিজ্ঞতা ঝেড়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করল পাকিস্তান। ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে পরাজিত করে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে সফরকারী দল। এই জয়ের মাধ্যমে কেবল সিরিজ সমতায় ফেরানোই নয়, বরং বিদেশের মাটিতে টানা আটটি টেস্ট ম্যাচ হেরে যাওয়ার দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন থেকেও মুক্তি পেল বাবর আজম ও তার সতীর্থরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই জয়টি পাকিস্তানি দলের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চতুর্থ দিনে জয়ের লক্ষ্যে নেমেছিল পাকিস্তান। মাত্র ৭৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টাতেই জয় নিশ্চিত করে। জয়ের মুহূর্তটিকে আরও রঙিন ও স্মরণীয় করে তোলেন অধিনায়ক বাবর আজম। স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানকে পরপর দুটি বিশাল ছক্কা মেরে তিনি দলের চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত করেন। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টের পর এই প্রথম বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। দীর্ঘ সময় পর বিদেশের মাটিতে এই বিজয় তাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ম্যাচের চতুর্থ দিন শুরু হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস দিয়ে। ৬ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে শুরু করলেও তারা আর বেশিদূর এগোতে পারেনি। মাত্র ১৪ রান যোগ করেই ১১৭ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিক দল। প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে পিছিয়ে থাকা ক্যারিবীয়দের মোট লিড দাঁড়ায় মাত্র ৭৪ রানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ, যা স্বাগতিকদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমান। তিনি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৩৯ রানে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। কিমার রোচকে শূন্য রানে বোল্ড করার পর জাস্টিন গ্রেভস এবং শামার জোসেফকেও দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান তিনি। আগের দিন চার উইকেট নেওয়া অফ স্পিনার সাজিদ খানের এদিন আর বোলিং করার প্রয়োজনই পড়েনি। অন্যদিকে, ফিল্ডিংয়ের সময় গুরুতর চোট পাওয়া ব্র্যান্ডন কিং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামতে পারেননি, যা স্বাগতিকদের ব্যাটিং গভীরতাকে আরও কমিয়ে দিয়েছিল।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল পাকিস্তান। ওপেনার ইমাম-উল-হক মাত্র ৯ রান করে জাস্টিন গ্রেভসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এরপর অন্য ওপেনার আজান আওয়াইস ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হন। ৪২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও এরপর হাল ধরেন বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শাফিক। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের এক দৃঢ় জুটি গড়ে তারা পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত দুজনই ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন আবদুল্লাহ শাফিক। প্রথম ইনিংসে তার ১৬০ রানের অনবদ্য অপরাজিত ইনিংসটিই ছিল এই জয়ের মূল ভিত্তি। তার সেই ধৈর্যশীল এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পাকিস্তান দলকে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করতে সাহায্য করে এবং শেষ পর্যন্ত সিরিজ সমতায় ফেরার পথ প্রশস্ত করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৩৪৪
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৭
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৪৬.১ ওভারে ১১৭ (আগের দিন ১০৩/৬) (গ্রেভস ৩, রোচ ০, শামার ৯, ওয়ারিক্যান ২*; আলি ১১-২-৩১-১, উবেইদ ৪-০-১৩-০, উসমান ১৯.১-৪-৪৯-৪, সাজিদ ১২-২-৩২-৪)
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৭৫) ২৩.৩ ওভারে ৭৭/২ (আজান ১৮, ইমাম ৯, শাফিক ২৪*, বাবর ২৪*; রোচ ২-০-১১-০, ওয়ারিক্যান ১১.৩-৪-৩৮-০, সিলস ৫-১-৯-১, শামার ৪-১-১৭-১, হজ ১-০-২-০)
ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ।
ম্যান অব দা ম্যাচ: আবদুল্লাহ শাফিক।
ম্যান অব দা সিরিজ: বাবর আজম ও জাস্টিন গ্রেভস।