বিরোধীদের উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের হক মেরে খাওয়ার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার এই বৈষম্যমূলক নীতি অবলম্বন করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতকে ভোট দেওয়া সাধারণ মানুষ যেন এই দেশের কোনো নাগরিকই নয় এবং তারা কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়। এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়া, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অন্তঃকোন্দল ও নানা অনৈতিক কার্যকলাপের সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি নষ্ট করছে বলে তিনি মনে করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করার সময় জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল জানান, সংসদ সদস্যদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন। কিন্তু সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তাদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি এই নিয়ম পরিবর্তনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। তাঁর মতে, ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত এই আলাপকালে তাঁর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।