ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দ্বিতীয় দিনও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলীয় পেসারদের প্রত্যাশার বিপরীতে টাইগার ব্যাটাররা দলকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে মিচেল স্টার্ক এবং মেহেদী হাসান মিরাজের মধ্যকার এক বাদানুবাদ। অজি বোলারদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই ঘটনার মাধ্যমে।
ঘটনাটি ঘটে ইনিংসের ১০৩তম ওভারে। স্টার্কের করা পঞ্চম বলে পয়েন্টের দিকে বল ঠেলে দিয়ে রান নিতে দৌড়ান মিরাজ। ক্রিকেট নিয়মানুযায়ী, বোলারদের মতো ব্যাটারদেরও দৌড়ানোর সময় পিচের মাঝখানের সুরক্ষিত এলাকা বা 'প্রোটেক্টেড এরিয়া' এড়িয়ে চলতে হয়। রান নেওয়ার শুরুতে মিরাজ স্টার্কের দিকে তাকিয়ে থাকলেও পরবর্তীতে বলের দিকে নজর দেন। পুনরায় সামনে তাকানোর আগেই তিনি স্টার্কের একেবারে মুখোমুখি হয়ে পড়েন। দিক পরিবর্তন না করে তিনি সরাসরি পিচের মাঝখান দিয়েই ছুটে যান, যা আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনার দৃষ্টি এড়ায়নি।
রান সম্পন্ন হওয়ার আগেই আম্পায়ার ধর্মসেনা মিরাজের কাছে গিয়ে তাকে সুরক্ষিত এলাকা দিয়ে দৌড়ানোর জন্য সতর্ক করেন। তাৎক্ষণিকভাবে মিরাজ ব্যাখ্যা দেন যে, বলের দিকে মনোযোগ দেওয়ার কারণে তিনি সামনে কী আছে তা বুঝতে পারেননি। এই ব্যাখ্যাই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। মিরাজের দিকে ইঙ্গিত করে স্টার্ক দাবি করেন, এটি তার ফলো-থ্রু এরিয়া এবং মিরাজকে অবশ্যই উইকেট ছেড়ে দিতে হবে। জবাবে মিরাজ পুনরায় জানান, বল দেখার কারণে তিনি সামনে কিছু দেখতে পাননি। নিজের বোলিং মার্কের দিকে ফেরার পথে স্টার্ককে আরও একবার মন্তব্য করতে শোনা যায়— ‘তুমি কিন্তু আর বাংলাদেশে নেই এখন, বুঝেছ?’
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে মিরাজের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যকার এবং সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং। পন্টিংয়ের মতে, মিরাজের এই পদক্ষেপটি একেবারেই ইচ্ছাকৃত ছিল না। বল দেখার পর যখন তিনি সামনে তাকান, তখন স্টার্ককে সামনে পেয়ে পিচের মাঝখান দিয়ে যাওয়াই তার কাছে সহজ মনে হয়েছিল।










