কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী সীমান্তে বিজিবির হাতে আটক হওয়া ভারতীয় গরুর নিলাম প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই অপ্রীতিকর ঘটনার একদিন পর বুধবার সন্ধ্যায় রৌমারী থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের শহীদ আবু সাইদ ইউনিটের রৌমারী শাখার সভাপতি মাহবুব আলম।
মামলার অভিযোগে অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন উপজেলার সুতিরপাড় গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মিলন মিয়া (৩৪), নটানপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াছিন সর্দারের ছেলে আল আমিন (৩০), জন্তিরকান্দা গ্রামের খাদেম আলীর ছেলে রাশেদ এবং নটানপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে শাহীন আলম। এছাড়া আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ১০টি ভারতীয় গরুর একটি প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এই নিলামে অংশ নিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নিলামের শুরুতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর এবং লভ্যাংশ ভাগাভাগির চেষ্টা করে। তবে এই বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ দাবি করলে বিএনপির পক্ষ থেকে ৩০ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জামায়াত নেতৃত্ব এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুহূর্তেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঠিক এই সময়ে জামায়াতের শহীদ আবু সাইদ ইউনিটের রৌমারী শাখার সভাপতি মাহবুব আলম তার মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে বাধা দেন এবং ভিডিও ধারণ করতে না দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতির ঘটনায় রূপ নেয়। পরবর্তীতে দুই দলের উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুনরায় প্রকাশ্য নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ইসরাফিল নামের একজন বিডার সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকায় ১০টি ভারতীয় গরু কিনে নেন।
অভিযোগে মাহবুব আলম বিস্তারিত বলেন, “আমি সাধারণ জনগণের স্বার্থে এবং মাননীয় এমপি মহোদয়ের একজন প্রতিনিধি হিসেবে ওই নিলামে উপস্থিত হয়েছিলাম। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাধারণ নিলাম ডাকদাতাদের বাধা প্রদান করেন এবং তাদের ভয়ভীতি দেখান। আমি যখন আমার মোবাইল ফোন দিয়ে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে যাই, তখন তারা আমাকে বাধা দেয়। ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে এবং নিলামে অংশগ্রহণকারী আরও ২-৩ জনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করে।”
এই বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন বলেন, “একটি নির্দিষ্ট পক্ষ সবসময় নিজেদের মধ্যে গোপন আলোচনার মাধ্যমে নিলাম ডাক দিয়ে আসছিল। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করে স্বচ্ছতার সাথে প্রকাশ্য নিলামের দাবি জানিয়েছি, যাতে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আমাদের এই স্বচ্ছতার দাবি বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষুব্ধ করে এবং তারা আমাদের লোকজনকে মারধর করেন। আমরা বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অবগত করেছি এবং উভয় পক্ষ বসে মীমাংসার চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু জানান, কয়েকটি গরুর নিলাম প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি এ ধরনের কোনো সহিংস ঘটনাকে সমর্থন করে না। বর্তমানে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান, নিলামের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন থাকায় বিষয়টি বড় ধরনের সংঘর্ষের পর্যায়ে যায়নি। তবে আজ (২৯ জুলাই) সন্ধ্যার পর মাহবুব আলম এই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।











