দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) একদিনের রিমান্ড শেষে মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মাকসুদা বেগমকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। একই দিনে আদালত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পরপরই পুলিশ গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে আটক করে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ পেশায় একজন মুদি দোকানদার। তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) সঙ্গে গত জুন মাসে ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম তার স্বামী ও প্রথম স্ত্রী মাকসুদার সঙ্গে শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, শ্যালক মো. ওবায়দুর রহমানের (৩৮) প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও সতীন মিলে মরিয়মকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে জানিয়ে আসতেন।

ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নজরুল ইসলাম বাদীকে দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করেন। এরপর বাসায় গিয়ে মাসুম বিল্লাহ দেখতে পান, একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা মরিয়মের মরদেহটি উদ্ধার করেন।